আমার সংবাদঃ প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের যেন কোনো শেষ নেই। ধামরাই উপজেলা সদর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে যাদবপুর ইউপির উত্তর পশ্চিমে আমছিমুর গ্রামে সেসিপ মডেল হাইস্কুলে এ ধরনের একটি জিনিস দেখা গেল। স্কুলের দ্বিতীয় তলার বারান্দার ছাদের চারদিকে মৌচাকের প্রাকৃতিক সমারোহ। কেবল এবার নয়। শীত মৌসুম এলেই মৌমাছিরা এই স্কুলের বারান্দায় এসে বাসা বাঁধে। এই স্কুলের বারান্দার চার দিকে চার-পাঁচটি নয়, ৭২টি মৌচাক বাসা বেঁধেছে।
কেন এমনটা হচ্ছে। সম্ভবত লেবু, আলু ক্ষেত্রের কারণে। এ স্কুলের আশপাশে যেদিকেই তাকানো যায়, দেখা যাবে কেবল লেবু ক্ষেত আর লেবু ক্ষেত। এসব লেবু ক্ষেতকে ঘিরেই মৌমাছির সমারোহ ঘটেছে। ৭-৮ বছর ধরে মৌমাছির আনাগোনাও বেড়েছে।
মৌমাছিগুলো লেবুর ফুলে ফুলে ঘুরে মুধ আহরণ করে দিনে দিনে এসব মৌচাক সমৃদ্ধ করে তোলে। প্রাকৃতিক এ মৌচাক থেকে এলাকাবাসী, শিক্ষার্থী, শিক্ষকরা খাঁটি মধু সংগ্রহ করে তাদের চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি অবশিষ্ট মধু বিক্রিও করছে।
ধামরাই উপসহকারী কৃষি অফিসার মো: মিজানুর রহমান যাদবপুর ইউপি ব্লকে পরিদর্শনকালে ওই ইউপি আমছিমুর গ্রামে সেসিপ মডেল হাই স্কুলে বারান্দার আশপাশে গুণে ৭২টি মৌচাক দেখে আশ্চর্য হন। তিনি আরো জানান, স্কুলের আশপাশে অনেক লোক মৌচকে ভিতরে কলম ও কাঠি ঢুকিয়ে মধু খেয়ে থাকে। এতেও মৌমাছিরা কিছুই বলে না। এছাড়া যাদবপুর ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান কোরবান আলীর আমছিমুর গ্রামের বাড়িতে ২৬টি মৌচাক বাসা বেঁধেছে।
আমছিমুর সেসিপ মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার বলেন, মৌমাছিরা কোনো শিক্ষর্থীকেই ক্ষতি করে না। প্রায়ই বিভিন্ন এলাকা থেকে মৌচাকগুলো দেখার জন্য মানুষ এ স্কুলে বেড়াতে আসে।
ধামরাই উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ লুৎফর রহমান সিকদার বলেন, ধামরাইয়ের আমছিমুর গ্রাম লেবুর গ্রাম হিসেবেই পরিচিত। এখানে লেবু যথেষ্ট উৎপাদন হয়ে থাকে। আর এ লেবু ফুল থেকে মৌমাছিরা মুধ সংগ্রহ করছে। এজন্য ওই স্কুলে প্রাকৃতিক মৌচাক বাসা বেঁধেছে। যেখানে ফুলের সমারোহ ঘটে সেখানেই বেশি মৌমাছির আনাগোনার সম্ভাবনা থাকে। এ লেবুর ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করলে মধুর মানও ভালো হয়। লেবুর ফুলের মধু বেশ উপকারি।


No comments: