আমার সংবাদঃ ‘আর হে নবী! আমার বান্দা যদি তোমার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, তাহলে তাদেরকে বলে দাও, আমি তাদের কাছেই আছি। যে আমাকে ডাকে আমি তার ডাক শুনি এবং জবাব দেই, কাজেই তাদের আমার আহ্বানে সাড়া দেয়া এবং আমার ওপর ঈমান আনা উচিত, এ কথা তুমি তাদের শুনিয়ে দাও, হয়তো সত্য-সরল পথের সন্ধান পাবে।’(সূরা বাকারা : ১৮৬)
‘পৃথিবী ও আকাশমণ্ডলে যা-ই আছে সবাই তাঁর কাছে নিজের প্রয়োজন প্রার্থনা করছে। প্রতি মুহূর্তে তিনি নতুন নতুন কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত।’(সূরা আর রাহমান:২৯)
মহাবিশ্বের এ কর্মক্ষেত্রে প্রতি মুহূর্তে তাঁরই কর্মতৎপরতার এক সীমাহীন ধারাবাহিকতা চলছে। কাউকে তিনি মারছেন আবার কাউকে জীবন দান করছেন। কারো উত্থান ঘটাচ্ছেন আবার কারো পতন ঘটাচ্ছেন, কাউকে আরোগ্য দান করছেন আবার কাউকে রোগাক্রান্ত করেছেন, কাউকে ডুবন্ত অবস্থা থেকে রক্ষা করেছেন আবার সাঁতার কেটে চলা কাউকে নিমজ্জিত করেছেন। সীমা সংখ্যাহীন সৃষ্টিকে নানাভাবে রিজিক দান করেছেন। অসংখ্য বস্তুকে নতুন নতুন স্টাইল, আকার-আকৃতি ও গুণ বৈশিষ্ট্য দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তাঁর পৃথিবী কখনো এক অবস্থায় অপরিবর্তিত থাকে না। তার পরিবেশ ও অবস্থা প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তিত হতে থাকে এবং তার স্রষ্টা তাকে প্রতিবারই একটি নতুন রূপে সজ্জিত করেন, যা আগের সব আকার-আকৃতি থেকে ভিন্ন হয়ে থাকে।
যদিও আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনকে আমাদের বাস্তব চক্ষু দ্বারা দেখতে পাই না এবং ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে অনুভবও করতে পারি না, তথাপি তাঁকে দূরে মনে করা ঠিক নয়। আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক বান্দার অতি কাছেই অবস্থান করেন। প্রত্যেক মানুষ ইচ্ছা করলে সব সময় তার কাছে আর্জি পেশ করতে পারে। এতে তিনি সব কিছু শুনেন। কারণ তিনি সামিউম বাছির বা শ্রবণকারী ও মহাদ্রষ্টা। এমন কি মনে মনে যা আবেদন করা হয় তাও তিনি শুনতে পান। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ মনের গোপন কথাও জানেন।’(সূরা ইমরান : ১১৯) শুধু শুনতে পান না বরং সে সম্পর্কে তিনি সিদ্ধান্তও ঘোষণা করেন। মানুষ অজ্ঞতা ও মূর্খতার কারণে যেসব অলীক, কাল্পনিক ও অক্ষম সত্তাদের উপাস্য ও প্রভু গণ্য করে তাদের কাছে দৌড়ে যায়, অথচ তারা তার কোনো আবেদন-নিবেদন শুনতে পায় না এবং আবেদনের ব্যাপারে
কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও তাদের নেই। আল্লাহ গভীর ও প্রখর দৃষ্টিসম্পন্ন। তিনি তাঁর বান্দাদের কার্যাবলী, সঙ্কল্প ইচ্ছা পুরোপুরি ভালোভাবেই জানেন। কারণ তিনি বাছিরুম বিল ইবাদ। তিনি লাতিফ বা সূক্ষ্মদর্শী। আল্লাহ তায়ালা বলেন, (আর লোকমান বলেছিল)‘হে পুত্র!
কোনো জিনিস যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয় এবং তা লুকিয়ে থাকে পাথরের মধ্যে, আকাশে বা পৃথিবীতে কোথাও, তাহলে আল্লাহ তা বের করে নিয়ে আসবেন। তিনি সূক্ষ্মদর্শী এবং সবকিছু জানেন।’ (সূরা লুকমান ১৬) ‘দৃষ্টিশক্তি তাঁকে দেখতে অক্ষম কিন্তু তিনি দৃষ্টিকে আয়ত্ত করে নেন। তিনি সূক্ষ্মদর্শী ও সর্বজ্ঞ।’(আন’আম : ১০৩) আল্লাহর জ্ঞান ও তাঁর পাকড়াওয়ের বাইরে কেউ যেতে পারে না।
আল্লাহ তায়ালা বান্দাহর এত কাছাকাছি অবস্থান করেন যে, কোনো প্রকার মাধ্যম ও সুপারিশ ছাড়াই বান্দাহ সরাসরি সর্বত্র ও সবসময় তাঁর কাছে আবেদন-নিবেদন পেশ করতে পারে। আল্লাহ তায়ালাই একমাত্র ওহাব বা প্রকৃত দাতা। আমাদের সমাজব্যবস্থায় কিছু কিছু বিষয় মনকে দারুণভাবে পীড়া দেয়। এর মধ্যে একটি হলো, কিছু কিছু মূর্খ মানুষ সেই প্রকৃত দাতা আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি মানুষের দরবারে সন্তান কামনা করে থাকে। খুব ভালো করে মনে রাখা প্রয়োজন এ ধরনের আচরণ সুস্পষ্ট শিরকের অন্তর্ভুক্ত। সন্তান দেয়ার মালিক আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। হজরত ইবরাহিম (আ:) শেষ বয়সে এসে আল্লাহর কাছে বলছেন, ‘আমি আমার রবের দিকে যাচ্ছি, তিনিই আমাকে পথ দেখাবেন। হে পরোয়ারদিগার! আমাকে একটি সৎকর্মশীল পুত্রসন্তান দাও। (এ দোয়ার জবাবে) আমি তাকে একটি ধৈর্যশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম।’(সা-ফ্ফাত : ১০০-১০১) কাজেই আমাদের প্রত্যেককে অক্ষম ও বানোয়াট খোদার দ্বারে দ্বারে মাথা ঠুকে মরার অজ্ঞতা ও মূর্খতার বেড়াজাল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে হবে। একজন ব্যক্তি দুনিয়ায় জীবনযাপনের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, বস্তুগত বা অবস্তুগত যত কিছুর অভাব বা প্রয়োজন হয়, সবগুলোরই প্রকৃত দাতা একমাত্র আল্লাহ তায়ালা।
আল্লাহ তায়ালাই প্রকৃত ও উত্তম রিজিকদাতা। পৃথিবীতে রিজিকদানের পরোক্ষ মাধ্যম যে বা যাই হোক না কেন তাদের সবার চেয়ে উত্তম রিজিকদাতা হলেন আল্লাহ তায়ালা। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর যে সময় তারা ব্যবসায় ও খেল তামাশার উপকরণ দেখলো তখন তারা তোমাকে দাঁড়ান অবস্থায় রেখে সে দিকে দৌড়ে গেল। তাদের বলো, আল্লাহর কাছে যা আছে তা খেল তামাশা ও ব্যবসায়ের চেয়ে উত্তম। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ট রিজিকদাতা।’ (সূরা জুময়া : ১১) কুরআন মজিদের বহু সংখ্যক স্থানে এ ধরনের কথা বলা হয়েছে। কোথাও আল্লাহ তায়ালাকে আহসানুল খালিকিন ‘সর্বোত্তম সৃষ্টিকর্তা’, কোথাও খায়রুল গাফিরিন ‘সর্বোত্তম ক্ষমাকারী’, কোথাও খায়রুল হাকিমিন ‘সর্বোত্তম বিচারক’, খায়রুর রাহিমিন ‘সর্বোত্তম দয়ালু’, কোথাও খায়রুন নাছিরিন ‘সর্বোত্তম সাহায্যকারী’ বলা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সৃষ্টি বা মাখলুকের রিজিক দেয়া, সৃষ্টি করা, দয়া করা এবং সাহায্য করার যে সম্পর্ক তা রূপক বা পরোক্ষ অর্থে প্রয়োগ করা হয়েছে এবং আল্লাহ তায়ালার ক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থে প্রয়োগ করা হয়েছে। অর্থাৎ দুনিয়াতে দৃশ্যত যে বা যারা তোমাদেরকে বেতন, পারিশ্রমিক বা খাদ্য দিচ্ছে বলে মনে হয়, যাদেরকে তাদের শিল্প ও কারিগরি দক্ষতা দিয়ে কিছু তৈরি করতে দেখা যায় অথবা যাদেরকেই অন্যদের অপরাধ ক্ষমা করতে, দয়া করতে এবং সাহায্য করতে দেখা যায় আল্লাহ তাদের সবার চেয়ে বড় রিজিকদাতা, বড় সৃষ্টিকর্তা, বড় দয়ালু, বড় ক্ষমাকারী এবং বড় সাহায্যকারী। আল্লাহ তায়ালাই বড় রিজিকদাতা তার বাস্তব প্রমাণ আমরা দেখতে পাই যখন অনাবৃষ্টি বা অতিবৃষ্টি শুরু হয়। মাঠের পর মাঠ বিরানভূমিতে পরিণত হয়, তখন কোনো সৃষ্টির পক্ষে তার মোকাবেলা করার ক্ষমতা হয় না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তিনিই তো তোমাদের নিদর্শন দেখান এবং তোমাদের জন্য আসমান থেকে রিজিক নাজিল করেন (কিন্তু এসব নিদর্শন দেখে) কেবল তারাই শিক্ষা গ্রহণ করে যারা আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী (সুতরাং হে প্রত্যাবর্তনকারীরা) দীনকে আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করে তাঁকেই ডাকো, তোমাদের এ কাজ কাফেরদের কাছে যতই অসহনীয় হোক না কেন।’ (সূরা মুমিন : ১৩) এখানে রিজিক নাজিল মানে বৃষ্টিপাত। কেননা মানুষ এ পৃথিবীতে যত প্রকার রিজিক লাভ করে তা সবই বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করে। আল্লাহ তায়ালা তাঁর অসংখ্য নিদর্শনগুলোর মধ্য থেকে এ একটিমাত্র নিদর্শনের কথা ধরে তুলে এ মর্মে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যে, তোমরা যদি কেবল এ একটি জিনিসের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করো তাহলে বুঝতে পারবে, প্রকৃত রিজিকদাতা শুধু আল্লাহ তায়ালা, সেটিই বাস্তব ও সত্য।
আল্লাহ তায়ালা মানুষের প্রতিটি বিষয় সম্পর্কেই জ্ঞাত। প্রতিটি প্রয়োজন, যা ব্যক্তির মনের গহিনে লুপ্ত আছে, যার বহিঃপ্রকাশ এখনো ঘটেনি, তাও আল্লাহ তায়ালা জানেন। কারণ তিনি মহাজ্ঞানী, অতিশয় জ্ঞাত। তিনি অনুমান ও ধারণার ভিত্তিতে কোনো কথা বলেন না, বরং তিনি প্রতিটি বস্তু সম্পর্কেই সরাসরি জ্ঞানের অধিকারী। তিনিই একমাত্র জানেন কোন জিনিসে মানুষের উন্নতি এবং মানুষের কল্যাণের জন্য কোন নীতিমালা, আইনকানুন ও বিধিনিষেধ আবশ্যক। তাঁর প্রতিটি শিক্ষা সঠিক কৌশল ও জ্ঞানভিত্তিক যার মধ্যে ভুল-ভ্রান্তির কোনো সম্ভাবনা নেই। ‘অবশ্যই আল্লাহ অন্তরের গোপন কথাও জানেন।’ (লুকমান : ২৩) তিনি আলিমুম বিজাতিছ ছুদুর ও আল্লামুল গুয়ুব। যিনি গোপন সত্যের জ্ঞান রাখেন। (বিভিন্ন অনুগ্রহের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে) আল্লাহ যখন বলবেন, ‘হে মরিয়ম পুত্র ঈসা! তুমি কি লোকদের বলেছিলে, ‘আল্লাহকে বাদ দিয়ে আমাকে ও আমার মাকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করো?’ তখন সে জবাব দেবে, ‘সুবহানাল্লাহ! যে কথা বলার কোনো অধিকার আমার ছিল না সে ধরনের কোনো কথা বলা আমার জন্য অশোভন ও অসঙ্গত। যদি আমি এমন কথা বলতাম তাহলে আপনি নিশ্চয়ই তা জানতে পারতেন, আমার মনে যা আছে আপনি জানেন কিন্তু আপনার মনে যা আছে আমি তা জানি না, আপনি তো সব গোপন সত্যের জ্ঞান রাখেন। (মায়েদা : ১১৬) আল্লাহ আলিমুল গায়িব সব প্রকার অদৃশ্য বস্তুর জ্ঞান তিনি রাখেন। হজরত ঈসা (আ:)-এর জবাব থেকেই এর সুস্পষ্ট ধারণা আমরা পাই। মানুষের মনের অন্ধকার কুঠুরিতে কী আছে, আল্লাহর কাছে তা দিবালোকের মতোই সুস্পষ্ট। কারণ তিনি আল্লামুল গুয়ুব। আল্লাহ মহাজ্ঞানী ও মহাবিজ্ঞ। সুতরাং জ্ঞান ও বিজ্ঞতার দাবি হচ্ছে এই যে, যাকে বুদ্ধি-জ্ঞান দান করা হবে তাকে তার কাজের জন্য দায়ীও করা হবে। তার জ্ঞান ও বুদ্ধি কোন কাজে কিভাবে ব্যবহার করেছে তা মহাজ্ঞানীর নখদর্পণে আছে। মানুষ, জিন, ফেরেশতা বা অন্য কোনো সৃষ্টিই হোক না কেন সবার জ্ঞান অপূর্ণ ও সীমিত। বিশ্ব-জাহানের ব্যবস্থাপনা এবং এর অন্তর্নিহিত কার্যকারণ ও ফলাফল বুঝার মতো জ্ঞান কারো নেই। বিশ্ব-জাহানের সমগ্র সত্য ও রহস্য কারো দৃষ্টিসীমার মধ্যে নেই। বিশ্ব-জাহানের প্রভু ও পরিচালক মহান আল্লাহই পুরোপুরি জ্ঞান রাখেন। সব ক্ষেত্রে জ্ঞানের মূল উৎস মহান আল্লাহর হিদায়াত ও পথনির্দেশনার ওপর আস্থা স্থাপন করা ছাড়া মানুষের জন্য দ্বিতীয় আর কোনো পথ নেই। সুতরাং তাঁর কাছেই চাইতে হবে।
আল্লাহ তায়ালা মানুষের বিপদেরও বন্ধু। কারণ তিনি ওয়াকিল বা মহাপ্রতিনিধি, তত্ত্বাবধায়ক। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর যাদেরকে লোকেরা বললো : ‘তোমাদের বিরুদ্ধে বিরাট সেনা সমাবেশ ঘটেছে। তাদেরকে ভয় করো।’ তা শুনে তাদের ঈমান আরো বেড়ে গেছে এবং তারা জবাবে বলেছে : ‘আমাদের জন্য আল্লাহ যথেষ্ট এবং তিনি সবচেয়ে ভালো তত্ত্বাবধায়ক।’ (ইমরান : ১৭৩) এ তো আল্লাহ তোমাদের রব! তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই। সব কিছুর তিনিই স্রষ্টা। কাজেই তাঁর বন্দেগি করো। তিনি সব কিছুর তত্ত্বাবধায়ক।’ (আনয়াম : ১০২) ওহোদ থেকে ফেরার পথে আবু সুফিয়ান মুসলমানদের চ্যালেঞ্জ দিয়ে গিয়েছিল, আগামী বছর বদর প্রান্তরে আমাদের সাথে তোমাদের আবার মোকাবেলা হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় এগিয়ে এলে আর তার সাহসে কুলালো না। তাই সে মান বাঁচানোর জন্য একটি কৌশল অবলম্বন করল। গোপনে এক ব্যক্তিকে মদিনায় পাঠিয়ে দিলো। সে মদিনায় পৌঁছে মুসলমানদের মধ্যে এ খবর ছড়াতে লাগল যে, এ বছর কুরাইশরা বিরাট প্রস্তুতি নিয়েছে। তারা এত বড় সেনাবাহিনী তৈরি করছে যার মোকাবেলা করার সাধ্য আরবের কারো নেই। এ ঘোষণার পর রাসূল সা:-এর দৃঢ়তায় মুসলমানদের ঈমান আরো বেড়ে গেল। ১৫০০ প্রাণ উৎসর্গকারী মুজাহিদ বদরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলো। তারা বলে উঠলো আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি সবচেয়ে ভালো তত্ত্বাবধায়ক। ঠিকই নবী করিম সা: তাদের নিয়ে বদরে হাজির হলেন।
ওদিকে আবু সুফিয়ান দুই হাজার সৈন্য নিয়ে এগিয়ে আসতে থাকল। কিন্তু দু’দিন পথ চলার পর সে সাথীদের বলল, এ বছর যুদ্ধ করা সঙ্গত হবে না। আগামী বছর আমরা আসবো। কাজেই নিজের সেনাবাহিনী নিয়ে সে ফিরে গেল। নবী করিম সা: আটদিন বদর প্রান্তরে অপেক্ষা করলেন। কাফেররা ফিরে গেছে এ খবর পাওয়ার পর তিনি সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে মদিনায় ফিরে আসেন।
সুতরাং বিপদে-আপদে আল্লাহর ওপর ভরসা ও বিশ্বাস রাখা উচিত। যার যা প্রয়োজন, তা মহান দাতা, মহান প্রভু, মহান তত্ত্বাবধায়ক, মহান বন্ধু আল্লাহ তায়ালার কাছেই চাওয়া উচিত।
লেখক : প্রবন্ধকার
‘পৃথিবী ও আকাশমণ্ডলে যা-ই আছে সবাই তাঁর কাছে নিজের প্রয়োজন প্রার্থনা করছে। প্রতি মুহূর্তে তিনি নতুন নতুন কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত।’(সূরা আর রাহমান:২৯)
মহাবিশ্বের এ কর্মক্ষেত্রে প্রতি মুহূর্তে তাঁরই কর্মতৎপরতার এক সীমাহীন ধারাবাহিকতা চলছে। কাউকে তিনি মারছেন আবার কাউকে জীবন দান করছেন। কারো উত্থান ঘটাচ্ছেন আবার কারো পতন ঘটাচ্ছেন, কাউকে আরোগ্য দান করছেন আবার কাউকে রোগাক্রান্ত করেছেন, কাউকে ডুবন্ত অবস্থা থেকে রক্ষা করেছেন আবার সাঁতার কেটে চলা কাউকে নিমজ্জিত করেছেন। সীমা সংখ্যাহীন সৃষ্টিকে নানাভাবে রিজিক দান করেছেন। অসংখ্য বস্তুকে নতুন নতুন স্টাইল, আকার-আকৃতি ও গুণ বৈশিষ্ট্য দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তাঁর পৃথিবী কখনো এক অবস্থায় অপরিবর্তিত থাকে না। তার পরিবেশ ও অবস্থা প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তিত হতে থাকে এবং তার স্রষ্টা তাকে প্রতিবারই একটি নতুন রূপে সজ্জিত করেন, যা আগের সব আকার-আকৃতি থেকে ভিন্ন হয়ে থাকে।
যদিও আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনকে আমাদের বাস্তব চক্ষু দ্বারা দেখতে পাই না এবং ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে অনুভবও করতে পারি না, তথাপি তাঁকে দূরে মনে করা ঠিক নয়। আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক বান্দার অতি কাছেই অবস্থান করেন। প্রত্যেক মানুষ ইচ্ছা করলে সব সময় তার কাছে আর্জি পেশ করতে পারে। এতে তিনি সব কিছু শুনেন। কারণ তিনি সামিউম বাছির বা শ্রবণকারী ও মহাদ্রষ্টা। এমন কি মনে মনে যা আবেদন করা হয় তাও তিনি শুনতে পান। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ মনের গোপন কথাও জানেন।’(সূরা ইমরান : ১১৯) শুধু শুনতে পান না বরং সে সম্পর্কে তিনি সিদ্ধান্তও ঘোষণা করেন। মানুষ অজ্ঞতা ও মূর্খতার কারণে যেসব অলীক, কাল্পনিক ও অক্ষম সত্তাদের উপাস্য ও প্রভু গণ্য করে তাদের কাছে দৌড়ে যায়, অথচ তারা তার কোনো আবেদন-নিবেদন শুনতে পায় না এবং আবেদনের ব্যাপারে
কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও তাদের নেই। আল্লাহ গভীর ও প্রখর দৃষ্টিসম্পন্ন। তিনি তাঁর বান্দাদের কার্যাবলী, সঙ্কল্প ইচ্ছা পুরোপুরি ভালোভাবেই জানেন। কারণ তিনি বাছিরুম বিল ইবাদ। তিনি লাতিফ বা সূক্ষ্মদর্শী। আল্লাহ তায়ালা বলেন, (আর লোকমান বলেছিল)‘হে পুত্র!
কোনো জিনিস যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয় এবং তা লুকিয়ে থাকে পাথরের মধ্যে, আকাশে বা পৃথিবীতে কোথাও, তাহলে আল্লাহ তা বের করে নিয়ে আসবেন। তিনি সূক্ষ্মদর্শী এবং সবকিছু জানেন।’ (সূরা লুকমান ১৬) ‘দৃষ্টিশক্তি তাঁকে দেখতে অক্ষম কিন্তু তিনি দৃষ্টিকে আয়ত্ত করে নেন। তিনি সূক্ষ্মদর্শী ও সর্বজ্ঞ।’(আন’আম : ১০৩) আল্লাহর জ্ঞান ও তাঁর পাকড়াওয়ের বাইরে কেউ যেতে পারে না।
আল্লাহ তায়ালা বান্দাহর এত কাছাকাছি অবস্থান করেন যে, কোনো প্রকার মাধ্যম ও সুপারিশ ছাড়াই বান্দাহ সরাসরি সর্বত্র ও সবসময় তাঁর কাছে আবেদন-নিবেদন পেশ করতে পারে। আল্লাহ তায়ালাই একমাত্র ওহাব বা প্রকৃত দাতা। আমাদের সমাজব্যবস্থায় কিছু কিছু বিষয় মনকে দারুণভাবে পীড়া দেয়। এর মধ্যে একটি হলো, কিছু কিছু মূর্খ মানুষ সেই প্রকৃত দাতা আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি মানুষের দরবারে সন্তান কামনা করে থাকে। খুব ভালো করে মনে রাখা প্রয়োজন এ ধরনের আচরণ সুস্পষ্ট শিরকের অন্তর্ভুক্ত। সন্তান দেয়ার মালিক আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। হজরত ইবরাহিম (আ:) শেষ বয়সে এসে আল্লাহর কাছে বলছেন, ‘আমি আমার রবের দিকে যাচ্ছি, তিনিই আমাকে পথ দেখাবেন। হে পরোয়ারদিগার! আমাকে একটি সৎকর্মশীল পুত্রসন্তান দাও। (এ দোয়ার জবাবে) আমি তাকে একটি ধৈর্যশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম।’(সা-ফ্ফাত : ১০০-১০১) কাজেই আমাদের প্রত্যেককে অক্ষম ও বানোয়াট খোদার দ্বারে দ্বারে মাথা ঠুকে মরার অজ্ঞতা ও মূর্খতার বেড়াজাল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে হবে। একজন ব্যক্তি দুনিয়ায় জীবনযাপনের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, বস্তুগত বা অবস্তুগত যত কিছুর অভাব বা প্রয়োজন হয়, সবগুলোরই প্রকৃত দাতা একমাত্র আল্লাহ তায়ালা।
আল্লাহ তায়ালাই প্রকৃত ও উত্তম রিজিকদাতা। পৃথিবীতে রিজিকদানের পরোক্ষ মাধ্যম যে বা যাই হোক না কেন তাদের সবার চেয়ে উত্তম রিজিকদাতা হলেন আল্লাহ তায়ালা। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর যে সময় তারা ব্যবসায় ও খেল তামাশার উপকরণ দেখলো তখন তারা তোমাকে দাঁড়ান অবস্থায় রেখে সে দিকে দৌড়ে গেল। তাদের বলো, আল্লাহর কাছে যা আছে তা খেল তামাশা ও ব্যবসায়ের চেয়ে উত্তম। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ট রিজিকদাতা।’ (সূরা জুময়া : ১১) কুরআন মজিদের বহু সংখ্যক স্থানে এ ধরনের কথা বলা হয়েছে। কোথাও আল্লাহ তায়ালাকে আহসানুল খালিকিন ‘সর্বোত্তম সৃষ্টিকর্তা’, কোথাও খায়রুল গাফিরিন ‘সর্বোত্তম ক্ষমাকারী’, কোথাও খায়রুল হাকিমিন ‘সর্বোত্তম বিচারক’, খায়রুর রাহিমিন ‘সর্বোত্তম দয়ালু’, কোথাও খায়রুন নাছিরিন ‘সর্বোত্তম সাহায্যকারী’ বলা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সৃষ্টি বা মাখলুকের রিজিক দেয়া, সৃষ্টি করা, দয়া করা এবং সাহায্য করার যে সম্পর্ক তা রূপক বা পরোক্ষ অর্থে প্রয়োগ করা হয়েছে এবং আল্লাহ তায়ালার ক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থে প্রয়োগ করা হয়েছে। অর্থাৎ দুনিয়াতে দৃশ্যত যে বা যারা তোমাদেরকে বেতন, পারিশ্রমিক বা খাদ্য দিচ্ছে বলে মনে হয়, যাদেরকে তাদের শিল্প ও কারিগরি দক্ষতা দিয়ে কিছু তৈরি করতে দেখা যায় অথবা যাদেরকেই অন্যদের অপরাধ ক্ষমা করতে, দয়া করতে এবং সাহায্য করতে দেখা যায় আল্লাহ তাদের সবার চেয়ে বড় রিজিকদাতা, বড় সৃষ্টিকর্তা, বড় দয়ালু, বড় ক্ষমাকারী এবং বড় সাহায্যকারী। আল্লাহ তায়ালাই বড় রিজিকদাতা তার বাস্তব প্রমাণ আমরা দেখতে পাই যখন অনাবৃষ্টি বা অতিবৃষ্টি শুরু হয়। মাঠের পর মাঠ বিরানভূমিতে পরিণত হয়, তখন কোনো সৃষ্টির পক্ষে তার মোকাবেলা করার ক্ষমতা হয় না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তিনিই তো তোমাদের নিদর্শন দেখান এবং তোমাদের জন্য আসমান থেকে রিজিক নাজিল করেন (কিন্তু এসব নিদর্শন দেখে) কেবল তারাই শিক্ষা গ্রহণ করে যারা আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী (সুতরাং হে প্রত্যাবর্তনকারীরা) দীনকে আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করে তাঁকেই ডাকো, তোমাদের এ কাজ কাফেরদের কাছে যতই অসহনীয় হোক না কেন।’ (সূরা মুমিন : ১৩) এখানে রিজিক নাজিল মানে বৃষ্টিপাত। কেননা মানুষ এ পৃথিবীতে যত প্রকার রিজিক লাভ করে তা সবই বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করে। আল্লাহ তায়ালা তাঁর অসংখ্য নিদর্শনগুলোর মধ্য থেকে এ একটিমাত্র নিদর্শনের কথা ধরে তুলে এ মর্মে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যে, তোমরা যদি কেবল এ একটি জিনিসের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করো তাহলে বুঝতে পারবে, প্রকৃত রিজিকদাতা শুধু আল্লাহ তায়ালা, সেটিই বাস্তব ও সত্য।
আল্লাহ তায়ালা মানুষের প্রতিটি বিষয় সম্পর্কেই জ্ঞাত। প্রতিটি প্রয়োজন, যা ব্যক্তির মনের গহিনে লুপ্ত আছে, যার বহিঃপ্রকাশ এখনো ঘটেনি, তাও আল্লাহ তায়ালা জানেন। কারণ তিনি মহাজ্ঞানী, অতিশয় জ্ঞাত। তিনি অনুমান ও ধারণার ভিত্তিতে কোনো কথা বলেন না, বরং তিনি প্রতিটি বস্তু সম্পর্কেই সরাসরি জ্ঞানের অধিকারী। তিনিই একমাত্র জানেন কোন জিনিসে মানুষের উন্নতি এবং মানুষের কল্যাণের জন্য কোন নীতিমালা, আইনকানুন ও বিধিনিষেধ আবশ্যক। তাঁর প্রতিটি শিক্ষা সঠিক কৌশল ও জ্ঞানভিত্তিক যার মধ্যে ভুল-ভ্রান্তির কোনো সম্ভাবনা নেই। ‘অবশ্যই আল্লাহ অন্তরের গোপন কথাও জানেন।’ (লুকমান : ২৩) তিনি আলিমুম বিজাতিছ ছুদুর ও আল্লামুল গুয়ুব। যিনি গোপন সত্যের জ্ঞান রাখেন। (বিভিন্ন অনুগ্রহের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে) আল্লাহ যখন বলবেন, ‘হে মরিয়ম পুত্র ঈসা! তুমি কি লোকদের বলেছিলে, ‘আল্লাহকে বাদ দিয়ে আমাকে ও আমার মাকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করো?’ তখন সে জবাব দেবে, ‘সুবহানাল্লাহ! যে কথা বলার কোনো অধিকার আমার ছিল না সে ধরনের কোনো কথা বলা আমার জন্য অশোভন ও অসঙ্গত। যদি আমি এমন কথা বলতাম তাহলে আপনি নিশ্চয়ই তা জানতে পারতেন, আমার মনে যা আছে আপনি জানেন কিন্তু আপনার মনে যা আছে আমি তা জানি না, আপনি তো সব গোপন সত্যের জ্ঞান রাখেন। (মায়েদা : ১১৬) আল্লাহ আলিমুল গায়িব সব প্রকার অদৃশ্য বস্তুর জ্ঞান তিনি রাখেন। হজরত ঈসা (আ:)-এর জবাব থেকেই এর সুস্পষ্ট ধারণা আমরা পাই। মানুষের মনের অন্ধকার কুঠুরিতে কী আছে, আল্লাহর কাছে তা দিবালোকের মতোই সুস্পষ্ট। কারণ তিনি আল্লামুল গুয়ুব। আল্লাহ মহাজ্ঞানী ও মহাবিজ্ঞ। সুতরাং জ্ঞান ও বিজ্ঞতার দাবি হচ্ছে এই যে, যাকে বুদ্ধি-জ্ঞান দান করা হবে তাকে তার কাজের জন্য দায়ীও করা হবে। তার জ্ঞান ও বুদ্ধি কোন কাজে কিভাবে ব্যবহার করেছে তা মহাজ্ঞানীর নখদর্পণে আছে। মানুষ, জিন, ফেরেশতা বা অন্য কোনো সৃষ্টিই হোক না কেন সবার জ্ঞান অপূর্ণ ও সীমিত। বিশ্ব-জাহানের ব্যবস্থাপনা এবং এর অন্তর্নিহিত কার্যকারণ ও ফলাফল বুঝার মতো জ্ঞান কারো নেই। বিশ্ব-জাহানের সমগ্র সত্য ও রহস্য কারো দৃষ্টিসীমার মধ্যে নেই। বিশ্ব-জাহানের প্রভু ও পরিচালক মহান আল্লাহই পুরোপুরি জ্ঞান রাখেন। সব ক্ষেত্রে জ্ঞানের মূল উৎস মহান আল্লাহর হিদায়াত ও পথনির্দেশনার ওপর আস্থা স্থাপন করা ছাড়া মানুষের জন্য দ্বিতীয় আর কোনো পথ নেই। সুতরাং তাঁর কাছেই চাইতে হবে।
আল্লাহ তায়ালা মানুষের বিপদেরও বন্ধু। কারণ তিনি ওয়াকিল বা মহাপ্রতিনিধি, তত্ত্বাবধায়ক। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর যাদেরকে লোকেরা বললো : ‘তোমাদের বিরুদ্ধে বিরাট সেনা সমাবেশ ঘটেছে। তাদেরকে ভয় করো।’ তা শুনে তাদের ঈমান আরো বেড়ে গেছে এবং তারা জবাবে বলেছে : ‘আমাদের জন্য আল্লাহ যথেষ্ট এবং তিনি সবচেয়ে ভালো তত্ত্বাবধায়ক।’ (ইমরান : ১৭৩) এ তো আল্লাহ তোমাদের রব! তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই। সব কিছুর তিনিই স্রষ্টা। কাজেই তাঁর বন্দেগি করো। তিনি সব কিছুর তত্ত্বাবধায়ক।’ (আনয়াম : ১০২) ওহোদ থেকে ফেরার পথে আবু সুফিয়ান মুসলমানদের চ্যালেঞ্জ দিয়ে গিয়েছিল, আগামী বছর বদর প্রান্তরে আমাদের সাথে তোমাদের আবার মোকাবেলা হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় এগিয়ে এলে আর তার সাহসে কুলালো না। তাই সে মান বাঁচানোর জন্য একটি কৌশল অবলম্বন করল। গোপনে এক ব্যক্তিকে মদিনায় পাঠিয়ে দিলো। সে মদিনায় পৌঁছে মুসলমানদের মধ্যে এ খবর ছড়াতে লাগল যে, এ বছর কুরাইশরা বিরাট প্রস্তুতি নিয়েছে। তারা এত বড় সেনাবাহিনী তৈরি করছে যার মোকাবেলা করার সাধ্য আরবের কারো নেই। এ ঘোষণার পর রাসূল সা:-এর দৃঢ়তায় মুসলমানদের ঈমান আরো বেড়ে গেল। ১৫০০ প্রাণ উৎসর্গকারী মুজাহিদ বদরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলো। তারা বলে উঠলো আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি সবচেয়ে ভালো তত্ত্বাবধায়ক। ঠিকই নবী করিম সা: তাদের নিয়ে বদরে হাজির হলেন।
ওদিকে আবু সুফিয়ান দুই হাজার সৈন্য নিয়ে এগিয়ে আসতে থাকল। কিন্তু দু’দিন পথ চলার পর সে সাথীদের বলল, এ বছর যুদ্ধ করা সঙ্গত হবে না। আগামী বছর আমরা আসবো। কাজেই নিজের সেনাবাহিনী নিয়ে সে ফিরে গেল। নবী করিম সা: আটদিন বদর প্রান্তরে অপেক্ষা করলেন। কাফেররা ফিরে গেছে এ খবর পাওয়ার পর তিনি সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে মদিনায় ফিরে আসেন।
সুতরাং বিপদে-আপদে আল্লাহর ওপর ভরসা ও বিশ্বাস রাখা উচিত। যার যা প্রয়োজন, তা মহান দাতা, মহান প্রভু, মহান তত্ত্বাবধায়ক, মহান বন্ধু আল্লাহ তায়ালার কাছেই চাওয়া উচিত।
লেখক : প্রবন্ধকার



No comments: